বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা- “স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণের অসমাপ্ত কাজগুলি গতি পাক”

03 Feb 2021 | 03:00 pm - 04:00 pm

আগামীকাল ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটি: সাগর- রুমি মিলনায়তনে সিরাক-বাংলাদেশ এবং কমিউনিটি অনকোলোজি সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে ০৩ ফেব্রুয়ারি- ২০২১, বিকাল ৩ঃ০০ ঘটিকায় একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকবেন কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর সাবেরা খাতুন, জননীর জন্য পদযাত্রার প্রধান সমন্বয়কারী এবং ক্যান্সার এন্ড এনসিডি এওয়ারনেস প্রোগ্রাম এর কো-চেয়ারম্যান ডাঃ মোঃ হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন এবং সিরাক-বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত।

প্রতিনিয়ত বাড়ছে ক্যান্সারের প্রকোপ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট মতে, গোটা বিশ্বে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শুধু তাই নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার -এর রিপোর্ট দেশি-বিদেশি ডাক্তাররা বলছেন, গোটা বিশ্বে ক্যান্সারের বৃদ্ধির একটাই কারণ, লাইফস্টাইল এবং খাদ্যাভাস। এই কারণেই, দেশ-বিদেশের সমস্ত চিকিৎসকরাই বেঁধে দিয়েছেন কী খাবেন, কী খাবেন না-র তালিকা। ক্যান্সারে মৃতের দুই-তৃতীয়াংশই নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশের বাসিন্দা। অর্থাৎ উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলিতে এই কর্কট রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০০০ সালে প্যারিসে প্রথম ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য সম্মেলন শুরু হয় এবং বিশ্ব ক্যান্সার দিবস প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকেই প্রতিবছর এই দিনটিতে মানুষকে সচেতন করতে এবং ভয় না পেয়ে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এই দিনটি পালন হয়ে আসছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯.৬ লক্ষ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মানুষ এই রোগ সম্পর্কে সচেতন না হলে বাড়তে পারে মৃত্যুর সংখ্যা। যদিও, ইতিমধ্যেই আমাদের দেশে লাফিয়ে বেড়েছে সংখ্যাটা। আন্তর্জাতিক সংস্থাা ‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার’-আইএআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারাবিশ্বে প্রতি বছর ৫,৬৯,৮৪৭ নারী এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। মৃত্যুবরণ করে ৩,১১,৩৬৫ জন। এছাড়া আইএআরসি’র হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে মহিলা ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের পরেই দ্বিতীয় স্থাানে রয়েছে জরায়ুমুখের ক্যান্সার। আইএআরসি’র এই হিসাব অনুযায়ী প্রতিবছর জরায়ুমুখের ক্যান্সারে বাংলাদেশে ৮,০৬৮ জন নারী আক্রান্ত হয়, মহিলাদের ক্যান্সারের প্রায় ১২.৩%। মারা যায় ৫,২১৪ জন। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের সর্বশেষ প্রকাশিত ২০১৪ সালের হাসপাতাল- ভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন প্রতিবেদন অনুযায়ী মহিলাদের ক্যান্সারের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের স্থান দ্বিতীয় (১৭.৯%), স্তন ক্যান্সার শীর্ষে (২৭.৪%)। তামাক ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশে ২০১৩ সালে প্রায় ১২৬,০০০ মানুষকে হত্যা করেছে, যা দেশের সকল মৃত্যুর ১৩.৫%। বাংলাদেশে বর্তমানে তামাক-গুণগত অসুস্থতায় ভুগছেন প্রায় দেড় মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ।

বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা করতে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে আমাদের সচেতনতার অভাব, দরিদ্র রেডিওথেরাপির সুবিধা, একটি সম্পূর্ণ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের হাসপাতালের অনুপলব্ধতা, ক্যান্সারের জন্য সরকারের কাছ থেকে দরিদ্র তহবিল, সমস্যাটি মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাব, ক্যান্সারের নিবন্ধগুলির অভাব। অনেকে ভিতরে ভিতরে রোগটি পুষতে থাকেন। লক্ষণ প্রকাশ পেলেও পরিবারের সদস্যদের কাছেও গোপন রাখেন। শেষ পর্যায়ে যখন চিকিৎসার জন্য আসেন, তখন আর করার কিছু থাকে না। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ক্যান্সার পরবর্তী কয়েক দশক ধরে বিশ্বের সমস্ত অঞ্চলে রোগব্যাধি এবং মৃত্যুর একটি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপ‚র্ণ কারণ হবে বলে প‚র্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব ক্যান্সারের হার দ্রুত পরিবর্তিন হচ্ছে, ২০০৮ সালের পর থেকে এই সংখ্যা আর বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) এর অনুমান অনুসারে, বাংলাদেশে ক্যান্সারের সাথে সম্পর্কিত মৃত্যুর হার ২০৩০ অবধি ১৩% এ উন্নীত হবে। উক্ত আলোচনা সভায় সারাদেশ থেকে তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করবেন এবং তাদের জানা-অজানা ও মতামত জ্ঞাপন করবেন। ক্যানসার সম্পর্কে আমাদের ভ্রান্ত ধারণা নিরসনে এবং আরও বড় পরিসরে ক্যান্সার সচেতনার প্রচারণা চালানোর আহ্বানে উক্ত আলোচনা সভার আয়োজন।

#WCD2021 #SERAC_Bangladesh #COC